কলকাতায় মার্তিনেজের রোড শো

- আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই ২০২৩
- / ১৬৬৬ বার পড়া হয়েছে
কলকাতায় বুধবার রোড শো করলেন মার্তিনেজ। সত্যনারায়ণ পার্ক থেকে সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যার পর্যন্ত।
ভারতে এখন সচরাচর রাজনীতিবিদদেরই রোড শো করতে দেখা যায়। পশ্চিমবঙ্গেও কিছুদিন আগে রোড শো করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট এলেই রোড শো-র সংখ্যা বাড়ে। তবে একজন বিদেশি ফুটবলার রোড শো করছেন, রাস্তার দুই পাশে প্রচুর মানুষ উচ্ছ্বসিত হয়ে হাত নাড়ছেন, এমন দৃশ্য কলকাতাতেও বিরল।
আর মার্তিনেজের শরীরের ভাষায় বোঝা যাচ্ছিল, তিনি কতটা খুশি। গায়ে আর্জিন্টিনার জার্সি। হাতে ওয়ার্ল্ড কাপের রেপ্লিকা। গাড়ির ছাদ সরিয়ে দীর্ঘদেহী মার্টিনেজ দাঁড়িয়ে আছেন। হাত নাড়ছেন রাস্তায় এবং আশপাশের বাড়িতে তাকে দেখার জন্য উৎসুক মানুষদের দিকে। কখনো সেলফি তুলছেন। কখনো বিশ্বকাপ ট্রফির রেপ্লিকা তুলে দেখাচ্ছেন। মুখে সবসময় লেগে আছে হাসি। কখনো তা মৃদু, কখনো চওড়া।
দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, এই রোড শো-র প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছেন মার্তিনেজ।
তিনি অবশ্য আগেই কলকাতার মন জয় করে নিয়েছেন। দুই প্রধান মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের কোটি কোটি সমর্থকের মন জয় করেছেন, ‘জয় মোহনবাগান’, ‘জয় ইস্টবেঙ্গল’ বলে। দুই টিমের জার্সি গায়ে দিয়েছেন। আর বলেছেন, এবার মেসির সঙ্গে কলকাতায় আসবেন এবং খেলবেন।
সেই দৃশ্য কলকাতা কবে দেখবে, আদৌ দেখবে কিনা জানা নেই, তাই আপাতত মার্তিনেজে মজেছে এই শহর। বিশ্বকাপ এলেই কলকাতা সাদা-নীল ও হলুদে ভাগ হয়ে যায়। আর্জেন্টিনা না ব্রাজিল কে জিতবে, মেসি না নেইমার কে সফল হবেন, তানিয়ে চায়ের কাপে তুফান ওঠে। শহরের অনেক বাড়িতে আঁকা হয় তারকাদের ছবি, রাস্তায় ঝোলে অর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের পতাকা।
আর্জেন্টিনার টিভি চ্যানেল ও রেডিও গত বিশ্বকাপের সময় এনিয়ে রীতিমতো টক শো করেছে, জানতে চেয়েছে, কলকাতার ফুটবল সমর্থকদের এই আর্জেন্টিনা-প্রীতির কারণ কী?
সেই কলকাতায় মার্তিনেজ আসবেন, আর তাকে নিয়ে উন্মাদনা হবে না, মানুষ রাস্তায় নেমে তাকে দেখার জন্য হুড়োহুড়ি করবে না, সেলফি তোলার চেষ্টা করবে না, তা কি হয়?
সেটাই হলো। সন্তোষ মিত্র স্কোয্য়ারের মাঠে ঢোকার মুখে মার্তিনেজের নিরাপত্তারক্ষীরা হিমশিম খেলেন। তবে মার্তিনেজ তারপর খুদে ভক্তের গায়ে আর্জেন্টিনা জার্সিতে সই করলেন। হাসিমুখে সেলফি তুললেন। ভক্তদের অনুরোধ মিটিয়ে গেলেন শ্রীভূমিতে। সেখানে তার হাতে গোল্ডেন গ্লাভসের রেপ্লিকা দেয়া হলো। তিনি মারাদোনার মূর্তিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানালেন।
ডয়চে ভেলে